৫ মার্চ ২০১২ - ১৮:১৩

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের রাজধানী জিনজিবারের কয়েকটি সামরিক চৌকিতে গেরিলা হামলায় ১০৩ জন নিহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের রাজধানী জিনজিবারের কয়েকটি সামরিক চৌকিতে গেরিলা হামলায় ১০৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন সেনা সদস্য রয়েছে। বাকি ২৫ জন গেরিলা বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়েমেনের একটি সামরিক সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে। দেশটির হাসপাতাল সূত্রও খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে। সামরিক সূত্রটি জানিয়েছে, গেরিলাদের আকস্মিক হামলায় বহু সেনা আহত হয়েছে। এ ছাড়া, ৫৬ সেনাকে গেরিলারা ধরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে সাতজন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ হামলাকে নিতান্তই পাইকারি হত্যা বলে উল্লেখ করেছে ওই সূত্র। এ ছাড়া, এডেনের সামরিক হাসপাতাল জানিয়েছে, সেখানকার স্টাফরা আহত সেনাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আহতদের সংখ্যা এত বেশি যে, প্রশাসনিক অফিস এবং ওয়েটিং রুমগুলোও চিকিৎসা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। হতাহত সেনায় হাসপাতাল ভরে গেছে বলে এক ডাক্তার জানিয়েছেন।

ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল (রোববার) গেরিলারা কুদ এলাকার একটি সেনা চৌকিতে হামলা চালায়। এরপর পরই আরো কয়েকটি চৌকিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী সাধারণতঃ যে ধরনের অস্ত্র ও সামরিক যান ব্যবহার করে হামলার সময় গেরিলারা সেসব অস্ত্র এবং সামরিক যান ব্যবহার করেছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া সেনারা কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে গেরিলাদের সহযোগিতা করার জন্য দায়ী করেছে। তবে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ৩১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের নেতৃত্বে পরিবর্তনের দু'দিন পর এ হামলা হলো। গত শুক্রবার অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি দীর্ঘদিনের কমান্ডার জেনারেল মাহদি মাকোলাকে সরিয়ে জেনারেল সালেম আলী কাতানকে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে- হামলায় গেরিলারা জড়িত নাকি সেনাবাহিনীর অন্তর্দন্দ্ব তা নিয়ে এরইমধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি শপথ নেয়ার পর এটাই সর্বশেষ গেরিলা হামলা। শপথের দিনও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে কাছে এক হামলায় ২৫ জনের মতো সেনা সদস্য নিহত হয়েছিল।

[সূত্র : রেডিও তেহরান]